তথ্য অধিকার আইন

তথ্য জানা আমাদের মৌলিক অধিকার
Subscribe

সাধারণ প্রশ্নোত্তর

তথ্য অধিকার আইন কী এবং কেন?

তথ্য অধিকার আইন ২০০৯ সনের ০১ জুলাই থেকে সরকারীভাবে কার্যকর হয়েছে। তথ্য আইনের মাধ্যমে জনগণ সরকারের কাছ থেকে সরকারের কর্মকাণ্ড সংক্রান্ত এমন সব তথ্য চাইতে পারে, যা সরকার আগে জনগণের কাছে গোপন রাখত। এখন তথ্য আইনের মাধ্যমে সেসব তথ্য জনগণের জানার অধিকারের আওতায় আনা হয়েছে। আর তা জেনে জনগণ নিজেদের যেমন নিশ্চিত করতে পারে, তেমনি সরকারী কাজে স্বচ্ছতা আনতে ও সরকারের জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করতে পারে। সরকারী বা বিদেশী সাহায্যপ্রাপ্ত এনজিওরাও এই আইনের আওতায় পড়ে।

  • তথ্য বলতে কী বোঝায়?

সহজ ভাষায় বলতে গেলে সরকার যেসব পদ্ধতি ও প্রক্রিয়ার ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেয় তার বিবরণ এবং সরকারী কাজে যেসব দলিলপত্র ব্যবহার হয়, সরকারী কাজের মাধ্যমে যেসব দলিল, চিঠি, ফাইল ইত্যাদি তৈরি হয়, তা সবই তথ্য। যেমন, সরকারী সব প্রতিষ্ঠানের গঠনপ্রণালী, ব্যাবস্থাপনা কাঠামো, অফিসের কাগজপত্র, ফাইল, বই, নকশা, মানচিত্র, চুক্তি, তথ্য-উপাত্ত, আদেশ, বিজ্ঞপ্তি, দলিল, নমুনা, চিঠি, রিপোর্ট, খরচের হিসেব, প্রকল্প প্রস্তাব, ছবি, ফিল্ম ইত্যাদি সব কিছুই তথ্য। তাই দেখা যাচ্ছে যে তথ্য আইনের দৃষ্টিতে “তথ্য” ও সাধারণ অর্থে “তথ্যের” মানে এক না। সাধারণ অর্থে “তথ্য” বলতে আমরা সবরকম প্রকাশিত খবর, সংবাদ, সমাচার, বিবরন, বৃত্তান্ত, প্রতিবেদন ইত্যাদি বুঝি। আর তথ্য আইনের অর্থে “তথ্য” হচ্ছে সরকারের কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত অপ্রকাশিত সব তথ্যাদি।

  •  কর্তৃপক্ষ বলতে কি বোঝায়?
  • সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়।
  • সরকারের অধীনে বিভাগীয় জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের সব ধরনের প্রতিস্থান/অফিস।
  • আধা-স্রকারী/ স্বায়ত্তসাশিত/ সংবিধানবদ্ধ প্রতিষ্ঠান/ সংস্থা।
  • বিদেশী বা সরকারী সাহায্যপ্রাপ্ত এনজিওসমূহ ।

 

  • তথ্য কর্মকর্তা কাকে বলে?

এই আইন অনুযায়ী প্রত্যেক সরকারী কর্তৃপক্ষ ও নির্দিষ্ট কিছু বেসরকারী কর্তৃপক্ষ তাদের অফিসে একজন করে কর্মকর্তা নিয়োগ দেবে যার কাছে জনগণ তথ্য চেয়ে লিখিতভাবে অনুরোধ করতে পারবে। এইসব কর্মকর্তাকে তথ্য কর্মকর্তা নাম দেয়া হয়েছে।

  • কোন ধরনের তথ্য জানতে চাওয়া যাবে না?

বাংলাদেশের নিরাপত্তা, অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ত্বের ক্ষতিসাধন করতে পারে; অন্য কোন দেশ বা আন্তর্জাতিক, আঞ্চলিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষতি করতে পারে; কোন  তথ্য প্রকাশের ফলে অন্য কোন ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে; কোন তথ্য প্রকাশের ফলে আইনের প্রয়োগ  ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে বা জনগণের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে এই ধরনের তথ্য সরকার/কর্তৃপক্ষ কোন নাগরিককে দিতে বাধ্য হবে না। মোটকথা যেসব তথ্য প্রকাশের ফলে দেশ বা দশের ক্ষতি হতে পারে বা কোন ব্যক্তির মানবাধিকার লঙ্ঘন হতে পারে এরকম তথ্য কোন কর্তৃপক্ষ  কাউকে দিতে বাধ্য নয়।

ওপরের বর্ণনা অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা কাজে নিয়োজিত সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এই আইন প্রযোজ্য হবে না। অর্থাৎ তাদের কাছ থেকে জনগণ তথ্য চাইতে পারবে না। এদের মধ্যে এনএসআই, ডিজিএফআই, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা ইউনিট, সিআইডি, এসএসএফ, স্পেশাল ব্রাঞ্চ, র‍্যাবের গোয়েন্দা সেল, রাজস্ববোর্ডের গোয়েন্দা সেল অন্তর্ভুক্ত।

  • তথ্য পেতে হলে একজন নাগরিককে কী করতে হবে?

কেউ কোন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোন তথ্য জানতে চাইলে তাকে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে লিখিতভাবে আবেদন করতে হবে। ই-মেইলের মাধ্যমেও এই আবেদন পাঠানো যাবে। আবেদনপত্রে আবেদনকারীর নাম ঠিকানা এবং যে তথ্যের জন্য আবেদন করা হচ্ছে তার সঠিক বর্ণনা, কিভাবে আবেদনকারী সে তথ্য গ্রহণ করবে অর্থাৎ ফাইল দেখার মধ্যমে, না কি ফাইলের অনুলিপি নিয়ে, নোট নিয়ে, বা অন্য কোন উপায়ে নেবেন তা জানতে হবে। সরকার নির্ধারিত ফর্ম ছাপলে তাতেই আবেদন করতে হবে।

  • দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কীভাবে তথ্য প্রদান করবেন?

তথ্যের জন্য কোন নাগরিকের কাছ থেকে অনুরোধ পাবার ২০ দিনের মধ্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে সে তথ্য বাধ্যতামূলকভাবে সরবরাহ করতে হবে। তবে যে তথ্য চাওয়া হয়েছে তা যদি অন্য কোন ইউনিট বা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে যোগাড় করতে হয় তাহলে এই সময় ৩০ দিন পর্যন্ত বেড়ে যাবে। আর যদি কোন কারণে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অনুরোধকৃত তথ্য না দিতে পারে তাহলে তার কারণ উল্লেখ করে আবেদন পাবার ১০ দিনের মধ্যে তা আনুরোধকারীকে জানাতে হবে।

  •  তথ্য না পেলে কী করতে হবে?

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য না পেলে অথবা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবেদন পাননি বা আবেদন হারিয়ে গেছে বলে জানালে বা তাঁর দেয়া কোন সিদ্ধান্তে খুশি না হলে তিনি পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে যে কর্তৃপক্ষের (ইউনিটের) কাছে তথ্য চাওয়া হয়েছিল সেই সংস্থার বা ইউনিটের ঠিক ওপরের কার্যালয়ের কাছে আপীল করতে পারবেন। এই আপীলে মূল আবেদনপত্রের কপি ও তার সঙ্গে কোন সংযুক্তি থাকলে তা জুড়ে দিতে হবে।

  • আপীলের রায় না পেলে বা তা সন্তোষজনক না হলে করনীয় কী ও এক্ষেত্রে তথ্য কমিশনের ভূমিকা কী?

কোন ব্যক্তি সময়মত উপরে উল্লিখিত আপীলের কোন রায় না পেলে বা তার কাছে আপীলের রায় সন্তোষজনক মনে না হলে তিনি সরাসরি তথ্য কমিশনের কাছে অভিযোগ করতে পারবেন। আইনে কি কি কারণে এই অভিযোগ করা যাবে তার উল্লেখ আছে। তথ্য কমিশন এক্ষেত্রে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে পারে। যেমন, কমিশন অভিযোগ খারিজ করতে পারে কিংবা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নতুনভাবে পদক্ষেপ নিতে বলতে পারে। এছাড়াও কমিশন যদি মনে করে যে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা  এই আইন অমান্য করেছেন তাহলে তাকে জরিমানা করতে পারবে। কোন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য প্রদান বা এই বিষয়ে তার সিদ্ধান্ত জানাতে না পারলে কিংবা ভুল, অসম্পূর্ণ, বিভ্রান্তিকর বা বিকৃত তথ্য প্রদান করলে কিংবা তথ্য প্রদানে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে তাকে তথ্য দেবার জন্য নির্দিষ্ট দিনের পর থেকে প্রতিদিন ৫০ টাকা করে অনধিক ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা তথ্য কমিশন আরোপ করতে পারবে।

  • তথ্য কমিশনের রায়ের বিরুদ্ধে আপীল করা যাবে কী?

তথ্য কমিশনের রায়ের বিরুদ্ধে কেউ কোন আদালতে আপীল করতে পারবে না। তথ্য কমিশন একটি দেওয়ানী আদালতের মত ক্ষমতা প্রয়োগ করে কোন ব্যক্তিকে সমনজারি করে, কমিশনের সামনে হাজির হবার জন্যে বাধ্য করে, তথ্য-প্রমাণ, দলিলপত্র, সাক্ষ্য ইত্যাদি তলব করতে পারবে। অর্থাৎ তথ্য কমিশন একটি দেওয়ানী আদালতের ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। তবে সংবিধানের ১০২ ধারা অনুযায়ী সংক্ষুব্ধ কোন ব্যক্তি উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করতে পারবে।

  • তথ্য কমিশনের দায়িত্ব কী?

তথ্য আইন ঠিকমত প্রয়োগ হচ্ছে কি না তা তদারকির জন্যে এবং আইন অমান্য করা হলে তার প্রতিবিধানের জন্য একটি তথ্য কমিশন স্থাপন করা হয়েছে। কমিশন জনগণের কাছ থেকে এই আইন প্রয়োগ সংক্রান্ত ব্যাপারে কোন অভিযোগ থাকলে তা গ্রহণ ক’রে সে ব্যাপারে অনুসন্ধান ও নিস্পত্তির ব্যবস্থা করবে। যেমন, সময়মত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিয়োগ না করা, আবেদনপত্র গ্রহণ না করা, সময়মত জবাব বা তথ্য না দেয়া, অযৌক্তিক মূল্য দাবি করা, অসম্পূর্ণ, ভ্রান্ত বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান করা ইত্যাদি। এরই মধ্যে সরকার একজন প্রধান তথ্য কমিশনার এবং ২ জন তথ্য কমিশনার নিয়োগ দিয়েছে।

Leave a Reply

  • তথ্য চাওয়া জনগণের অধিকার

    Sonja at RIB
    Poster
    information commissionar
    RTI meeting at RIB
    openning of the website
    Right to Information
    RTI Poster
  • Total Visitor

    • Total Visit: 117,380